কৃষি, স্বাস্থ্য ও বিকল্প জ্বালানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে গবেষণালব্ধ পাঁচটি উদ্ভাবন নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মাধ্যমে তৈরি প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।
মেলায় যবিপ্রবির প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ন্যানো-ইউরিয়া, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ব্যবহারের উপযোগী স্মার্ট সেন্সর, ন্যানো-ক্যারিয়ার ড্রাগ, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রিবায়োটিক এবং সরাসরি পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদনের প্রযুক্তি। এসব উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থী ও বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।
💧 পানি থেকে হাইড্রোজেন
সরাসরি পানি থেকে হাইড্রোজেন জ্বালানি উৎপাদনের পরিচ্ছন্ন শক্তি উদ্ভাবন। নেতৃত্ব: ড. মো. আমিনুল ইসলাম।
🌱 ন্যানো-ইউরিয়া
কৃষিক্ষেত্রে ইউরিয়ার সাশ্রয়ী ও কার্যকর সার প্রযুক্তি। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অনুমোদিত।
📡 স্মার্ট ফুড সেন্সর
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক গুণমান ও দূষণ শনাক্তকরণ সেন্সর প্রযুক্তি।
💊 ন্যানো-ক্যারিয়ার ড্রাগ
টার্গেটেড ড্রাগ ডেলিভারি এবং ওষুধের কার্যকারিতা বাড়ানোর উন্নত বায়োমেডিকেল প্রযুক্তি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নভোথিয়েটারে শুরু হওয়া এ আয়োজনে যবিপ্রবির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।
যবিপ্রবির প্রতিনিধি দলের গবেষক ও শিক্ষকবৃন্দ:
- ড. মো. আমিনুল ইসলাম - সহযোগী অধ্যাপক, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (হাইড্রোজেন জ্বালানি প্রযুক্তি)
- ড. মো. জাভেদ হোসেন খান - অধ্যাপক, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যানো-ইউরিয়া উদ্ভাবন)
- ড. কিশোর মজুমদার - অধ্যাপক, ফার্মেসি বিভাগ
- ড. সেলিনা আক্তার - অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ
- ড. মো. রাফিউল হাসান - সহযোগী অধ্যাপক, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
- ড. ফারহানা ইয়াসমিন - সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে তৈরি প্রযুক্তিগুলোকে বাস্তব প্রয়োগ ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়টি এবারের অংশগ্রহণে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। উদ্ভাবক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, সরকারের যথাযথ নীতিগত ও শিল্প সহায়তায় এসব প্রযুক্তি দ্রুত দেশের বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।