সরাসরি পানি থেকে হাইড্রোজেন জ্বালানি উৎপাদনের একটি গবেষণা প্রকল্প বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ প্রদর্শন করেছে হাইড্রোজেন এনার্জি অ্যান্ড CO₂ কনভার্সন ল্যাবের গবেষকরা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ঢাকার নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে একাডেমিক গবেষণা ও বাণিজ্যিক বাজারের চাহিদার মধ্যে সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো পানি থেকে সরাসরি হাইড্রোজেন উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন। গবেষকদের মতে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সম্ভাবনাময় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং শিল্পখাতে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও এর সম্ভাব্য প্রয়োগ রয়েছে।
গবেষণা প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিদ্যুতের উৎস প্রযুক্তিটির পরিবেশগত কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে প্রযুক্তিটিকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর করতে উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি দক্ষতা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোও নিবিড়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাইড্রোজেন এনার্জি অ্যান্ড CO₂ কনভার্সন ল্যাব নিয়মিতভাবে তাদের গবেষণার ফলাফল স্কোপাস-সূচিভুক্ত আন্তর্জাতিক শীর্ষ গবেষণা জার্নালে প্রকাশ করে আসছে। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রকাশনার মাধ্যমে গবেষণার বৈজ্ঞানিক মান ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি আধুনিক প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।
- সরাসরি ফটোইলেক্ট্রোক্যাটালাইসিস পদ্ধতিতে পানি বিভাজন (Water Splitting) ও হাইড্রোজেন উৎপাদন।
- শিল্প ও পরিবহন খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে শতভাগ গ্রিন এনার্জি প্রোটোটাইপ।
- আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমানো এবং জাতীয় কার্বন নিঃসরণ হ্রাস।
- পাইলট সিস্টেম সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যিক প্রয়োগের উপযোগী ডিজাইন।
গবেষণাগার পর্যায়ের উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে পাইলট সিস্টেমের বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণ, উৎপাদন ব্যয় কমানো, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাই এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন সক্ষমতা ও শিল্পখাতে বাস্তব প্রয়োগের উপযোগিতা পরীক্ষা করাও প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ প্রকল্পটির প্রদর্শন দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর একটি উজ্জ্বল সুযোগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট গবেষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় এই প্রযুক্তি অচিরেই দেশের শিল্পখাতে বাস্তব অবদান রাখবে।